কানাডার কিছু কৃষিপণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে চীন। কানাডা সরকার কর্তৃক চীনের তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা এ পদক্ষেপ নিল বেইজিং।
বেইজিং জানিয়েছে, কানাডার রেপসিড অয়েল, অয়েল কেক ও মটরশুঁটির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে কানাডা থেকে আসা জলজ পণ্য এবং শুকরের মাংসের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এ শুল্কগুলো ২০ মার্চ থেকে কার্যকর হবে।
গত বছর অক্টোবরে কানাডা চীন থেকে আমদানি হওয়া বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) অনুসরণ করেই এ সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির সরকার।
কানাডা একই সময়ে চীন থেকে আমদানি হওয়া ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যা গত বছরের ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে।
চীনের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ একটি বিবৃতিতে বলেছে, কানাডার একতরফা শুল্ক আরোপ করার পদক্ষেপটি বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মাবলিকে উপেক্ষা করে। এটি চীনের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ, যা চীন-কানাডা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলছে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে কানাডার সঙ্গে চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ আরো তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীন এরই মধ্যে কানাডার বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে, কিন্তু এটি আসলেই কেবল শুরু। এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরো শক্ত পদক্ষেপ নিতে পারে চীন, যা কানাডার কৃষি ও শিল্প খাতের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এমনকি কানাডা তার শুল্ক নীতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হতে পারে, যদি চীন আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে তা কেবল চীন ও কানাডার জন্যই ক্ষতিকারক হবে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। একে অন্যের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের এ ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্বের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে আরো অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।